জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : শিক্ষক নিয়োগের আবহেই নতুন নিয়ম চালুর পথে রাজ্য সরকার! শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতির মধ্যেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কড়া অবস্থান নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, নতুন করে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা থাকবে। তবে ইতিমধ্যেই যাঁরা শিক্ষকতা করছেন এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের উপর এই নিয়মের প্রভাব পড়বে না বলে জানা গিয়েছে।
নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে মোট ২২ হাজার ৮২৭ জন সহ-শিক্ষক নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ৪,৪৩২টি, উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ৬,০৫২টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ১২,৩৪৩টি পদে নিয়োগ করা হবে। নতুন নিয়োগের নিয়মে শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও তা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বর্তমানে যাঁরা শিক্ষকতা করছেন এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু নতুন করে শিক্ষকতার চাকরি পেলে সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নেওয়া যাবে না। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কেরল ছাড়া অন্য রাজ্যগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত থাকার প্রবণতা দেখা যায় না। সেই যুক্তিতেই পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের নিয়ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষকতার পেশার সম্মান বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। তবে সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে একমত নন সবাই। একাধিক শিক্ষক সংগঠন ইতিমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষক মহলে তার কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
