Logo of All India Football Federation - blue shield outline with 'INDIA' text on top, orange and green flame-like shapes surrounding a blue football, with text 'ALL INDIA FOOTBALL FEDERATION' in blue on the right, blurred football players in background.

জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলার স্বপ্নপূরণ, কিন্তু সেই ম্যাচ আয়োজন করেই বিপুল লোকসান! গত মাসে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করেছিল ভারতীয় দল। ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিরুদ্ধে তিনটি ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছিল ভারত। কোনও ম্যাচেই জয় আসেনি ঠিকই, তবে ভারতের খেলার ধরন প্রশংসা পেয়েছিল ফুটবল মহলে।

কিন্তু এবার সামনে এল অন্য ছবি। এই তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে প্রায় ৮০-৮৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের। সূত্রের খবর, ম্যাচ আয়োজনের বিপুল খরচই ফেডারেশনের আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে। এই আর্থিক ঘাটতি সামলাতে ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙাতে চেয়েছিলেন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। কিন্তু রবিবারের সাধারণ সভায় তাঁর প্রস্তাবে সায় দেননি অধিকাংশ সদস্য। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, লোকসানের বোঝা সামলাতে ফেডারেশনের সঞ্চিত অর্থে হাত দেওয়া উচিত নয়।

সহ-সভাপতি এন এ হ্যারিসও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, এফডি না ভাঙানোর বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কার্যনির্বাহী কমিটি। অন্যদিকে, কল্যাণ চৌবে জানিয়েছেন, আপাতত এফডি ভেঙে আর্থিক ঘাটতি মেটানো হলেও পরবর্তীকালে বাইরে থেকে অর্থের জোগান দিয়ে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে ঠিক কত টাকার ঘাটতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ম্যাচ আয়োজনের চুক্তিতে গোপনীয়তার শর্ত থাকায় সেই অঙ্ক প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজ্য ফুটবল সংস্থার এক কর্তা।

আর্থিক ঘাটতির প্রভাব এবার ঘরোয়া ফুটবলেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সভায় এক সদস্য প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতেই যদি এত টাকা লোকসান হয়, তাহলে সন্তোষ ট্রফি-সহ অন্যান্য ঘরোয়া প্রতিযোগিতা কীভাবে পরিচালনা করা হবে? ফুটবলের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদিও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি কল্যাণ চৌবে। এর আগে দাবি করা হয়েছিল, তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য ফেডারেশনকে নিজেদের তহবিল থেকে কোনও টাকা খরচ করতে হবে না। কিন্তু বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এবং এফডি ভাঙানোর প্রস্তাব সেই দাবি নিয়েই নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *