জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি টানলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। দেশের হয়ে দু’টি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলেছেন অবিস্মরণীয় দ্বিশতরানের ইনিংস। ব্যাটে-বলে একাধিকবার অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়েছেন কঠিন ম্যাচ। তবে বিদায়ের মুহূর্তটা প্রত্যাশামতো স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না তিনি।
অজি ক্রিকেটে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তিন ফরম্যাটেই দেশের হয়ে মাঠে নামলেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিশেষভাবে সফল ছিলেন তিনি। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে স্পিন বোলিংয়ের দক্ষতা তাঁকে অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য করে তুলেছিল। পরিসংখ্যান বলছে, ৭টি টেস্ট, ১৪৯টি ওয়ানডে ও ১৩০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছ’হাজারেরও বেশি রান এবং ১৩৬টি উইকেট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
২০১৫ সালে প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বাদ পান ম্যাক্সওয়েল। এরপর ২০২৩ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এক অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন। ৯১ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর যখন অস্ট্রেলিয়ার হার প্রায় নিশ্চিত, তখন ক্রিজে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালান ম্যাক্সওয়েল। শেষ পর্যন্ত ২০১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন। সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া।
তবে, জাতীয় দলের জার্সিতে ম্যাক্সওয়েলের শেষ অধ্যায়টা যেন কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই শেষ হল। চলতি বছরের গোড়াতেই অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। গত বছর ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে টি-টোয়েন্টিতে মন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অজি স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি তাঁর। এরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ৩৮ বছরের তারকা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিরুদ্ধে খেলাই ছিল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দেখা যাবে ম্যাক্সওয়েলকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন স্টার্সের সঙ্গে ২০২৬-২৭ মরসুম পর্যন্ত চুক্তিও রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলার সাহস, নিখুঁত শট নির্বাচন এবং প্রায় অসম্ভব জায়গা থেকে দলকে জেতানোর ক্ষমতা—ম্যাক্সওয়েলকে বরাবরই আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও টি-টোয়েন্টির মঞ্চে তাঁর ম্যাজিক দেখার অপেক্ষা থাকছেই।
