জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : চাকরি দেওয়ার নামে ১০ লক্ষ টাকার প্রতারণা! গ্রেফতার তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতো। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। ২০২৬ -এর বিধানসভা নির্বাচনে গোপীবল্লভপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অজিত মাহাতো। এলাকায় জমি মাফিয়া হিসেবেও তাঁর পরিচিতি ছিল বলে খবর। শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত চাওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ, বন দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে চার দফায় ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতো। ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা সজল দাসের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে তাঁকে স্থায়ী চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন অজিত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু দিনের পর দিন কেটে গেলেও চাকরি মেলেনি বলে অভিযোগ। এরপর টাকা ফেরত চাইলেও তা পাননি সজল। শেষ পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে অজিত মাহাতোকে।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, টাকা ফেরত দেওয়ার বদলে অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা দাবি করেন তৃণমূল নেতা, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেন। একইভাবে সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আরও একাধিক বেকার যুবকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। ঘটনায় গত ২৯ তারিখ ঝাড়গ্রাম থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(২), ৩১৮(৪), ৩০৮(৫), ৩৫১(৩), ১১১(৩) ও ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে রাত আড়াইটে নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে অজিত মাহাতোকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার আদালতে পেশ করা হবে তাঁকে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই প্রতারণার সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্রের যোগ রয়েছে কি না। একইভাবে আর কতজন যুবক প্রতারিত হয়েছেন এবং আদায় করা টাকা কোথায় গিয়েছে, তারও অনুসন্ধান চলছে।
