জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠন করা হল বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। এই কমিটিতে বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সচিব এবং ডিজি-আইজি-সহ একাধিক আধিকারিককে রাখা হয়েছে। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তকারী দল গঠনের কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্দেশ অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। যদিও এত অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট পেশ করা কঠিন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন SIT-এর প্রধান।

চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্ত নিয়ে মুখ খুললেন SIT-এর প্রধান তথা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তাঁর কথায়, এখনও তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। প্রথমেই খতিয়ে দেখা হবে, ঠিক কার গাফিলতিতে এই বিপর্যয় ঘটেছে এবং এতগুলি মৃত্যুর নেপথ্যে কী কী কারণ রয়েছে। ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে তাঁদের দোষ প্রমাণ করাই হবে তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য পুজো কমিটিগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের বলে স্বীকার করেছেন SIT-প্রধান। তাঁর কথায়, হাতে সময় খুব কম হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করতেই হবে।

চোরবাগান বিপর্যয়ে দায় কার, তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মোহন ভাগবতের বক্তব্যকে সমর্থন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল তিনি বলেন, সঙ্ঘচালক সঠিক কথাই বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিপর্যয়ের নেপথ্যে মানুষের ভুল থাকতে পারে। তবে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির পরিচয় ও ভূমিকা খতিয়ে দেখবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কী পোশাক পরেছিলেন, তাঁর জামায় কোন লোগো ছিল, সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই ব্যক্তি দর্শনার্থী, চক্রান্তকারী, অস্থায়ী হোমগার্ড, ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবক নাকি অন্য কেউ, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা মাইকে ঘোষণা করার প্রয়োজন ছিল না। রাত দুটো নাগাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি নিজে প্যান্ডেল ঘুরে দেখেছিলেন এবং তখন সেটি ভেঙে পড়েনি বলে দাবি করেছেন। যাঁরা দড়ি ধরে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের দড়ি ছেড়ে দেওয়া উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *