Large sea waves crashing violently onto a rocky shoreline with palm trees swaying in the background under an overcast, stormy sky.

জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলি। বুধবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়তে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড়টি। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) সূত্রে খবর, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। বইছে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তর।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে স্থলভাগে আঘাত হানার প্রক্রিয়া চলার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইয়ানামের দক্ষিণে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কাকিনাদা ও বিশাখাপত্তনমের বিভিন্ন এলাকায় উপড়ে পড়েছে গাছ। ছিঁড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের তার। প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় একাধিক রাস্তায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও বাড়ছে। আইএমডি-র সতর্কতা অনুযায়ী, স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু উপকূলবর্তী এলাকায়। বিশেষ করে কাকিনাদা ও ইয়ানামের আশপাশে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা বেশি। অন্যদিকে, আনাকাপল্লি ও বিশাখাপত্তনম জেলার একাধিক জায়গায় ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে ধীরে ধীরে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গজপতি, গঞ্জাম, রায়গড়া, কোরাপুট, নবরঙ্গপুর ও মালকানগিরি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি কালাহান্ডি, কান্ধামাল, পুরী, খোরধা-সহ একাধিক জেলায় জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমক এবং প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।

এছাড়াও সুন্দরগড়, সম্বলপুর, ময়ূরভঞ্জ, বালেশ্বর, ভদ্রক, কটক-সহ ওড়িশার একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর রাত পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক প্রশাসন। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *