জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : ফের বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে। এক ধাক্কায় গ্রাহকদের প্রায় ৩৫ কোটি টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল। গ্রাহকদের দাবি, তাঁদের অজান্তেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানো হয়েছে। নিজেরা কোনও লেনদেন না করা সত্ত্বেও টাকা হারিয়েছেন তাঁরা। এমনকী, আসেনি কোনও লেনদেনের সতর্কবার্তাও। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার সেক্টর পিআই-১ এলাকায় পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের একটি শাখায় কোটি কোটি টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। অভিযোগ, ফিক্সড ডিপোজিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একাধিক গ্রাহকের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেন ব্যাঙ্কের কর্মীরা। অথচ গ্রাহকদের দাবি, নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা এভাবে সরিয়ে নেওয়ার কথা তাঁরা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি।
সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকেই এই কারচুপি চলছিল বলে অভিযোগ। ওই শাখায় অ্যাকাউন্ট ছিল আশপাশের একাধিক গ্রামের কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীদের। গ্রাহকদের দাবি, তাঁদের অজান্তেই টাকা সরানো হয়েছে। আসেনি কোনও এসএমএস, নেওয়া হয়নি কোনও সম্মতিপত্রে সই, নিজেরাও তোলেননি টাকা। অথচ অ্যাকাউন্টে জমা সঞ্চয় কার্যত উধাও! এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ৮৮ লক্ষ টাকা থাকার পরও এখন পড়ে রয়েছে মাত্র ১ লক্ষ টাকা, এমনটাই দাবি। আরও এক গ্রাহকের অভিযোগ, নয়ডা বিমানবন্দরের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাঁর মায়ের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল প্রায় ১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা। অথচ বর্তমানে সেই অ্যাকাউন্ট শূন্য বলে দাবি। একের পর এক অভিযোগে বাড়ছে চাঞ্চল্য।
গ্রাহকদের টাকা উধাওয়ের অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। ইতিমধ্যেই ব্রাঞ্চ ম্যানেজার-সহ পাঁচ কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে রিজিওনাল অফিস। সংশ্লিষ্ট শাখায় নতুন কর্মীও নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রাহকদের টাকা ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তবে সেই আশ্বাসে নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্তরা। টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ কাটবে না বলেই জানাচ্ছেন তাঁরা।
