জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ নিয়ে উপকূলজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ! অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। উদ্ধার ও ত্রাণকার্যের জন্য তামিলনাড়ুর নাগারিকুপ্পামে মোতায়েন থাকা এনডিআরএফের চতুর্থ ব্যাটালিয়ন থেকে তিনটি দল অন্ধ্রপ্রদেশে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি।
আইএমডি জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মুরাসু’। ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে সেটি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টের মধ্যে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ওঙ্গোলের কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে ঝড়। সেই সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে ওড়িশার রায়গড়া জেলা প্রশাসনও। রবিবার জেলা কালেক্টরের নেতৃত্বে ভার্চুয়াল জরুরি বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। আগাম সতর্কবার্তা, উদ্ধার ও ত্রাণকার্য, জরুরি পরিষেবা এবং আশ্রয়কেন্দ্রের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় হলুদ সতর্কতা এবং ৩ ও ৪ নভেম্বরের জন্য কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে রায়গড়ার ১১টি ফায়ার স্টেশন থেকেই উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক ৩২৬-এ গাছ বা অন্য কোনও কারণে রাস্তা অবরুদ্ধ হলে দ্রুত তা পরিষ্কারের জন্য গুম্মা ঘাটি ও মুকুন্দপুর ঘাটিতে জেসিবি, এক্সকাভেটর এবং হাইড্রা ক্রেন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিডিও, তহসিলদার-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় এখন নজর আবহাওয়া দফতর ও প্রশাসনের।
