জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : অন্ধ্রপ্রদেশে এনকাউন্টার! নাবালিকা ছাত্রীর উপর বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হেমন্ত ওরফে দুম্মুকে লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি চালাল পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশকর্মীদের উপর হামলা করে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। এরপরই পালটা গুলি চালানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি যুবক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় অনন্তপুর জেলার আত্মাকুর জঙ্গল থেকে অভিযুক্ত হেমন্তকে গ্রেফতার করে পুলিশের বিশেষ দল। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল রাপ্তাডুতে। শনিবার এই এলাকারই একটি স্কুলে নাবালিকা ছাত্রীর উপর বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল হেমন্তের বিরুদ্ধে। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে অভিযুক্ত। পাথরের আঘাতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় পুলিশ। অভিযুক্ত হেমন্তকে লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলে খবর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে। প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হেমন্ত প্রায় অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরের একটি সরকারি স্কুলে বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে ঢুকে পড়ে হেমন্ত। ক্লাস চলাকালীন ১৫ বছরের এক নাবালিকা ছাত্রীর উপর আচমকাই হামলা চালায় সে। ছাত্রীর মুখ ও গলায় করাত দিয়ে আঘাত করে অভিযুক্ত। গোটা স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তাকে আটকাতে গিয়ে আহত হয় আরও এক ছাত্রী। বর্তমানে বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই পড়ুয়া। হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হেমন্ত ওরফে দুম্মুর বাড়ি শ্রী সত্য সাই জেলার নাগালুরে। বড় বোনের সঙ্গে অনন্তপুরে থাকত সে। আক্রান্ত ১৫ বছরের নাবালিকা তারই ভাগনি। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে বিরক্ত করছিল অভিযুক্ত। বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল সে। কিন্তু তাতে সম্মতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত এমন ভয়াবহ হামলা চালায় হেমন্ত। এই ঘটনায় দোষীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু।
