জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : উৎসবের আগে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ মহারাষ্ট্রে। রাজ্যজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৯ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের খাদ্যদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করল ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে পতঞ্জলির ঘি। শুধু পণ্য বাজেয়াপ্ত করাই নয়, পতঞ্জলির ডিস্ট্রিবিউটর-সহ ১৯ জন ব্যবসায়ীর লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। এফডিএ-র দাবি, বাজেয়াপ্ত খাদ্যপণ্যের মান ছিল অত্যন্ত খারাপ।
জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রজুড়ে এফডিএ-র অভিযানে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের খাদ্যপণ্যের হদিস। রাজ্যের সাতটি জোনের ১১৪টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে মোট ৩.৩৫ লক্ষ কেজি খাদ্যদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯.০১ কোটি টাকা। ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের সুপার ডিস্ট্রিবিউটর মেসার্স দিব্যা মহাবিতরকের গোডাউন থেকে ২,২৭৯ লিটার পতঞ্জলির ঘি উদ্ধার হয়েছে। যার দাম প্রায় ২০.২০ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে ৪,০৩২ ইউনিট ঘি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এফডিএ-র দাবি, বাজেয়াপ্ত ঘি খাদ্য সুরক্ষার ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ঘিও।
এর পাশাপাশি ভিওয়ান্ডির অ্যাভিনিউ সুপারমার্টস লিমিটেড থেকে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ২১৮ কেজি ভোজ্য তেল এবং ২০ হাজার ৫৬০ কেজি চাল, ডাল ও গুড় বাজেয়াপ্ত করেছে এফডিএ। একইসঙ্গে মুম্বই, অমরাবতী ও সম্ভাজিনগরের ১৯টি খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকা, অপরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় নথির অভাব—এই অভিযোগেই কারখানাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিষিদ্ধ খাদ্যপণ্য বিক্রির অভিযোগে ১৭টি সংস্থা থেকে ৭৯.৪০ লক্ষ টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই ঘটনায় ১৩টি এফআইআর দায়ের, সাতটি দোকান সিল, ছ’টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত এবং ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাসিক, সম্ভাজিনগর ও নাগপুর মিলিয়ে মোট ৩৪টি হোটেল ও ধাবা পরিদর্শন করে ২৯টিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, টাটা ১এমজি মেরিন কোলাজেন পাউডারের লেবেলিং ও বিজ্ঞাপনে অনিয়মের অভিযোগে টাটা ১এমজি, ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজনকেও শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছে এফএসএসএআই।
