জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : মেটার বিরুদ্ধে আদালতের নজিরবিহীন পদক্ষেপ! জরিমানা দিতে হবে ২৫০০ কোটি ডলার। মার্ক জুকারবার্গের সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার নিয়ে আমজনতাকে ভুল ধারণা দিয়েছে তারা। পাশাপাশি, ব্যবহারকারীদের তথ্য রাজনৈতিক কৌশল তৈরির কাজে ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই অনিয়মের জেরেই মেটার উপর বিপুল অঙ্কের জরিমানা চাপানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদের হাতে পৌঁছনোর অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কাণ্ডের সূত্র ধরে মেটার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করে নিউ মেক্সিকো। অভিযোগ, ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার নিয়ে ফেসবুক সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। অবশেষে বুধবার আদালত মেটাকে ২৫০০ কোটি ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্ক ২ লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এই রায়কে বড়সড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে অন্তত ৪ কোটি বার আইন লঙ্ঘন করেছে সংস্থাটি। ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষিত রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মেলেনি। জুকারবার্গ-সহ সংস্থার শীর্ষকর্তাদের আলোচনা ও অনুমতির ভিত্তিতে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে। বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউয়ের মন্তব্য, মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে জরিমানার অঙ্ক ২১৯০০ কোটি ডলার হওয়া উচিত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হয়েছে ২৫০০ কোটি ডলার।
অন্যদিকে, আদালতের রায়কে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে তারা। এরই মধ্যে ভারতে শিশু নিগ্রহ সংক্রান্ত কনটেন্ট, ডিপফেক এবং ভুয়ো তথ্য ছড়ানো নিয়ে মেটার উপর চাপ বাড়ছে। দুই মাস আগে কেন্দ্রের তরফে প্রযুক্তি সংস্থাটিকে অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বিকৃত তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার রুখতে কী কী পদক্ষেপ করা হবে, তার বিস্তারিত রোডম্যাপ জমা দিতেও বলা হয়েছিল। সব মিলিয়ে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে মেটা।
