Split image - on the left, police personnel in uniform standing and talking on a road at night, on the right, a passport-style portrait photo of a young man with short hair and a goatee against a blue background.

জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : গুয়াহাটির হোটেলে পাঁচ খুনের ঘটনায় বড়সড় মোড়! পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের। গত ২৬ অক্টোবরের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তদন্তের কেন্দ্রে ছিল ৩৪ বছরের এই অভিযুক্ত। বুধবার অসমের শিবসাগর জেলায় পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে সে। পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করতেই গুলি চালায় পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ঘনকান্তের।

পুলিশের দাবি, পালানোর ছক কষেই গাড়ি থামানোর আর্জি জানিয়েছিল ঘনকান্ত গগৈ। বুধবার ভোর ৩টে ১০ মিনিট নাগাদ শিবসাগর জেলার গৌরীসাগর থানার অন্তর্গত রংমন ধাবার কাছে ঘটে এই ঘটনা। অন্য একটি বিচারাধীন মামলায় গুয়াহাটি থেকে গগৈকে নিয়ে যাচ্ছিল শিবসাগর পুলিশের একটি দল। পথে শৌচকর্মের কথা বলে গাড়ি থামাতে বলে সে। গাড়ি থামতেই এক পুলিশ আধিকারিকের পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। সেই সময় গুলিবিদ্ধ হন এক পুলিশকর্মী। এরপরই বাধ্য হয়ে গুলি চালায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, তিনটি গুলি লাগে গগৈয়ের শরীরে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। আহত পুলিশকর্মীর চিকিৎসাও চলছে।

পাঁচ খুনের অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের বিরুদ্ধে ছিল ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতির মামলাও। শিবসাগরের পুলিশ সুপার পাপোরি চেটিয়া জানিয়েছেন, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ওই মামলাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, গাড়ি কেনার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিলেও কিস্তি মেটায়নি গগৈ। বরং তৎকালীন শাখা ম্যানেজার দেবব্রত বরগোহাঁইকে হুমকি দিয়েছিল সে। গত ৩ নভেম্বর গুয়াহাটি আদালত তার পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর শিবসাগর পুলিশের হেফাজতে আসে অভিযুক্ত।

গত ২৬ অক্টোবর বড়া সার্ভিস এলাকার ওই হোটেলে গুলি চালানোর ঘটনায় মৃত্যু হয় পাঁচজনের। মূল অভিযুক্ত ছিল ঘনকান্ত গগৈ। তদন্তে জানা যায়, হোটেলের মালিকপক্ষের সঙ্গে লিজের শর্ত এবং সংস্কার নিয়ে বিবাদ চলছিল তার। সেই সমস্যা মেটাতে বৈঠকের কথা থাকলেও, আলোচনার আগেই শুরু হয় বচসা। এরপরই গুলি চালায় গগৈ। রক্তাক্ত হয়ে ওঠে হোটেল চত্বর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *