জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কার্যত ধরাশায়ী রিপাবলিকানরা! ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে নির্বাচনী ট্রেন্ডে। এই আবহে আমেরিকার রাজনীতিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত একাধিক নেতা। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন পিয়া ডান্ডিয়া ও সুহাস সুব্রহ্মণ্যম। তবে উল্টো ছবি ট্রাম্প শিবিরে। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মুখ বিবেক রামস্বামীকে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।
ফ্লোরিডা থেকে ভার্জিনিয়া, একাধিক জায়গায় জয় পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতারা। ফ্লোরিডার ২২ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে প্রায় ৫১.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন পিয়া ডান্ডিয়া। এই জয়ের সুবাদে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে জায়গা করে নিলেন পেশায় শিক্ষাবিদ এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। অন্যদিকে, ভার্জিনিয়ার দশম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছেন সুহাস সুব্রহ্মণ্যম। ৬১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদেও ফের জয় পেয়েছেন অরুণা মিলার। মার্কিন নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এই সাফল্য বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।
এছাড়াও, পেনসিলভানিয়া থেকে নির্বাচিত হয়েছেন অরবিন্দ ভেঙ্কট এবং রাম ভিলিভালাম। এদিকে, আরও কয়েকজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতার নির্বাচনী ফল নিয়ে তৈরি হয়েছে অপেক্ষা। ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ফের লড়ছেন রো খান্না। ওয়াশিংটনের সপ্তম ডিস্ট্রিক্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রমীলা জয়পাল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার তৃতীয় ডিস্ট্রিক্টে রয়েছেন অমি বেরা। এই তিন প্রার্থীর চূড়ান্ত ফল এখনও জানা যায়নি।
জয়ের পাশাপাশি পরাজয়ের ছবিও উঠে এসেছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্প শিবিরের আলোচিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতা বিবেক রামস্বামী। ওহিওর গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের কাছে ২ লক্ষেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। এছাড়াও নির্বাচনে হারতে হয়েছে মহেশ গণোরকর, সন্দীপ দীক্ষিত ও অনিল কুমারের মতো ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের। উল্লেখ্য, মার্কিন কংগ্রেসে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনপ্রণেতাদের জোট ‘সামোসা ককাস’ নামে পরিচিত। আমেরিকার রাজনৈতিক পরিসরে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেই এই নামের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
