জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : সোমবার সকালেই বিধানসভায় চাঞ্চল্য! শৌচালয়ের ভিতর থেকে উদ্ধার হল এক কর্মীর দেহ। আচমকা কীভাবে মৃত্যু হল তাঁর? উঠছে একাধিক প্রশ্ন। খবর পেয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ বিধানসভায় পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হতে পারে ওই কর্মীর। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারীরা। বিষয়টি জানানো হয়েছে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে আপাতত ঘিরে রাখা হয়েছে গোটা এলাকা।
সূত্রের খবর, মৃত ব্যক্তির নাম উমেশচন্দ্র দাস (৬২)। ১৫ বছর ধরে বিধানসভার ক্যান্টিনে কাজ করতেন তিনি। উমেশচন্দ্রের বাড়ি তিলজলায়। বিধানসভার ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থার কর্মী ছিলেন তিনি। কাজের সূত্রে ক্যান্টিনেই থাকতেন, সেখানেই ঘুমোতেন রাতে। সোমবার সকালে আচমকাই ঘটে বিপত্তি। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ শৌচালয়ে ঢোকার পর দীর্ঘক্ষণ আর বেরিয়ে আসেননি উমেশ। সন্দেহ হওয়ায় খোঁজ নিতে যান অন্য কর্মীরা। কিন্তু ভিতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় ডাকাডাকি করেও কোনও উত্তর মেলেনি। এরপর দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে মেঝেতে উমেশের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। ঘটনাটি জানানো হয় বিধানসভার সচিব, মার্শাল এবং হেয়ার স্ট্রিট থানায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বিধানসভায় পৌঁছয় হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয় উমেশচন্দ্রের দেহ। এরপর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। বিধানসভার মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায় স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে গোটা বিষয়টি জানান। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে ৬২ বছরের ওই কর্মীর। তবে দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত শৌচালয়-সহ আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। বিধানসভায় অধিবেশন না চলায় স্বাভাবিকভাবেই লোকজনের আনাগোনা কম। তাই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাজকর্মে বিশেষ প্রভাব পড়েনি।
