জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : সাংবিধানিক আদালতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তাল পোল্যান্ড! প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সরকার ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত এবার চরম পর্যায়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সেনেগাল সফরের মাঝপথ থেকেই দেশে ফিরেছেন প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি। মাঝআকাশে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় তাঁর বিমান।
জানা গিয়েছে, আদালতের প্রেসিডেন্ট এবং উপপ্রেসিডেন্টকে এক মাসের জন্য সাসপেন্ড করার ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। আদালতের একাংশের অভিযোগ, এটি আসলে ‘অভ্যুত্থান’। যদিও সরকারের বক্তব্য, বিচারব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ক্রমেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে পোল্যান্ডের পরিস্থিতি।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রেসিডেন্ট বোগদান শভিয়েচকোভস্কি ও উপপ্রেসিডেন্ট বার্তোমেই সোচানস্কিকে এক মাসের জন্য সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণা করেন ট্রাইবুনালের প্রবীণতম এবং দীর্ঘতম মেয়াদের বিচারপতি অ্যানা কোরভিন-পিওত্রোভস্কি। তাঁর বক্তব্য, আপাতত আদালতের দায়িত্বভার তিনিই সামলাবেন। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় ওয়েবসাইট। আদালতের সরকারি এক্স হ্যান্ডলে দাবি করা হয়, ওয়েবসাইট বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছে। অ্যানা কোরভিন-পিওত্রোভস্কিকে বিচারপতি হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে ট্রাইবুনাল কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, অ্যানা ‘অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা’ করেছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন অ্যানার সিদ্ধান্তকে।
সাংবিধানিক আদালতের এই ঘোষণাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। আদালতের বাইরে জড়ো হন বিরোধী রক্ষণশীল দল ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির সমর্থকেরা। প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের ঘেরাটোপ ভেঙে আদালতে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে জিনিসপত্র ছোড়েন। এই ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।
যদিও, বিচারব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পোল্যান্ডে রাজনৈতিক সংঘাত অবশ্য নতুন নয়। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা পিআইএস সরকারের আমলে বিচারব্যবস্থায় একাধিক সংস্কার করা হয়েছিল। সেই সংস্কারের বিরোধিতা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তোলে, আদালতের স্বাধীনতা খর্ব করে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। তবে নতুন সংসদের নির্বাচিত বিচারপতিদের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সাংবিধানিক আদালতের প্রেসিডেন্ট শভিয়েচকোভস্কির বিরুদ্ধে। সরকারের বক্তব্য, আদালতের কাজকর্ম স্বাভাবিক করতেই বর্তমান পদক্ষেপ। পাল্টা বিরোধীদের দাবি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা করছে টাস্ক সরকার। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগেই আরও জটিল হয়ে উঠেছে পোল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
