জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : জঙ্গলমহলের প্রান্তিক জনজাতির পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার কালাঝরিয়া গ্রামে লোধা-শবরদের জন্য বিশেষ পুষ্টি প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বাজেটে করা ঘোষণা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট জনজাতি পরিবারগুলির বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে পৌঁছে দেওয়া হবে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী। এর লক্ষ্য, প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
প্রকল্পের আওতায় রেশনের পাশাপাশি উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে চাল, ডাল, তেল, সোয়াবিন ও রাগী-সহ পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেট। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা এবং বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যবহার করা হবে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। এর ফলে যোগ্য কোনও পরিবার যাতে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু খাদ্যসামগ্রী নয়, জঙ্গলমহলের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যও বিশেষ বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। এই খাতে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি লোধা-শবর সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাও প্রদান করা হয়।
এদিন, ঝাড়গ্রামের কালাঝরিয়া গ্রাম থেকে ভার্চুয়ালি আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাটের টোটোপাড়া এবং পুরুলিয়া-সহ রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র জনজাতির মানুষদের জন্যও এই পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রান্তিক জনজাতিগুলির জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং পুষ্টির ঘাটতি দূর করতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও, ঝাড়গ্রামের উন্নয়নে শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান, একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, জেলার ২ লক্ষ পড়ুয়া ৮০০ টাকা করে এসটি বৃত্তি পাবেন। পাশাপাশি, ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৯০৩ জন উপভোক্তা অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। জেলায় ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ঝাড়গ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে জেলার সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
