জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : উত্তরাখণ্ডের পথে হেঁটে দেশের দ্বিতীয় রাজ্য হিসাবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করল গুজরাট। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরই বিলটি আইনে পরিণত হল। যদিও এই বিধির আওতা থেকে বাদ রাখা হয়েছে তফসিলি উপজাতিদের।
চলতি বছরের মার্চ মাসে গুজরাট বিধানসভায় পাশ হয়েছিল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। বিজেপির বক্তব্য, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে সমাজে সৌহার্দ্য বাড়বে, লিঙ্গ বৈষম্য কমবে এবং মহিলারা আরও সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হবেন। তাঁদের মতে, এতে সংবিধানের মূল ভাবনাও অটুট থাকবে। প্রথমে কংগ্রেস বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিল পাশ করিয়ে নেয় বিজেপি সরকার, যা এখন আইনে পরিণত হল।
এই নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইনে একগুচ্ছ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, স্বামী বা স্ত্রী বেঁচে থাকতে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। বিয়ে এবং লিভ-ইন সম্পর্ক, দুই ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক, না হলে সরকারি নথিতে তার প্রভাব পড়বে। ডিভোর্স হবে শুধুমাত্র সিভিল কোর্টের মাধ্যমেই। আর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে উভয়েরই সমান অধিকার থাকবে।
অমিত শাহ দিন কয়েক আগেই জানিয়েছিলেন, ২০২৯ সালের মধ্যে এনডিএ-শাসিত ২১ রাজ্যে UCC কার্যকর করাই লক্ষ্য। সেই রোডম্যাপ মেনেই এগোচ্ছে বিজেপি। উত্তরাখণ্ডের পর এবার গুজরাটেও চালু হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। মধ্যপ্রদেশ, অসমে বিধানসভায় ইতিমধ্যে পাশ হয়েছে বিল। বাংলায় এই নয়া আইনের জন্য কমিটিও গড়েছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, আরও কয়েকটি রাজ্যে খুব শীঘ্রই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হবে।
