জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : ভারতীয় পাইলটের অসীম সাহাসিকতায় রক্ষা পেল প্রায় শতাধিক যাত্রীর প্রাণ। এড়ানো গেল ৯/১১ -এর মতো বড় দুর্ঘটনা। কো-পাইলটের ছুরির আঘাতের পরও নিরাপদে যাত্রীদের অবতরণ করালেন পাইলট স্মিত মচ্ছার। অবতরণের পর যাত্রীরা সেই হিরোকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন। তাঁর প্রশংয়সায় পঞ্চমুখ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে কুর্নিশ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

দুবাই থেকে তেল আভিভ – ফ্লাই দুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স হঠাৎই হাইজ্যাকের সংকেত পাঠায়। যাত্রাপথ বদলে সৌদির দিকে উড়তে থাকে, শোরগোল পড়ে যায় বিশ্বজুড়ে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, বিমানে বেশিরভাগই ইজরায়েলি, পাইলট ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করেছিল। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী একে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখও করেন। কিন্তু আসল ঘটনা অন্য। কো-পাইলট নিজের মতো বিমান ঘোরাচ্ছিলেন, তাতে বাধা দেন পাইলট স্মিত মচ্ছার। তখনই ছুরি দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করা হয়। শেষমেশ স্মিত ও কর্মীদের প্রচেষ্টায় সৌদি বিমানবন্দরে নিরাপদে নামে বিমান। রক্তাক্ত স্মিতকেই ‘ত্রাতা’ বলছেন যাত্রীরা, সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

দীর্ঘ ১৩ বছরের পাইলট কেরিয়ার স্মিতের। ১০ বছর স্পাইসজেটে থাকার পর ২০২২ সালে ফ্লাই দুবাইতে আসেন, ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে। ঝুলিতে প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা ওড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হয়েও যাত্রীদের সুরক্ষায় যেভাবে লড়েছেন, সেই সাহসকে স্যালুট জানাচ্ছে গোটা দেশ।

স্মিতের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর বীরতুল্য। মারাত্মক জখম অবস্থাতেও চরম বিপদের মুখে অন্যের প্রাণ বাঁচাতে যে সাহস দেখিয়েছেন, তা অতুলনীয়। তাঁর জন্যই বহু জীবন রক্ষা পেয়েছে, এড়ানো গেছে বড় দুর্ঘটনা। ভারত তাঁকে নিয়ে গর্বিত। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *