জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : দিল্লিতে যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ জনতা পার্টির, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে। সেই প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে কড়া নিরাপত্তা রাজধানীতে। মোতায়েন করা হয়েছে ২৬ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা। বন্ধ করা হয়েছে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে ট্রেন প্রবেশ। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে কলকাতা-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস সহ বহু ট্রেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন বিরোধীরা।
জানা গিয়েছে, দিল্লিতে অতিরিক্ত ১১ হাজার সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে, মোট কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা ২৬ হাজার। ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার পর এত বড় মোতায়েন হয়নি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বাইরে থেকে কেউ যাতে রাজধানীতে ঢুকতে না পারে, সেজন্যই বন্ধ নয়াদিল্লি ও নিজামুদ্দিন স্টেশন। শুক্রবার শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে নয়াদিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস বাতিল থাকছে। শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত নয়াদিল্লি স্টেশনে ট্রেন প্রবেশ বন্ধ। পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনও।
সূত্রের খবর, কাকরোচদের ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিরোধী দলগুলির যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাড়াবাড়ি নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ইন্ডিয়া জোটের টানা চার দিনের প্রতিবাদে সরকার ঘাবড়ে গিয়েছে বলেই এত নিরাপত্তার আয়োজন। এদিকে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আগে কেন পরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ করা হল, কেন হোটেল পাওয়া যাচ্ছে না এবং কেন সাধারণ মানুষকে বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সাংসদ কপিল সিব্বল।
সম্প্রতি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ে জমায়েত করে সিজেপি। সেই মঞ্চ থেকেই যন্তরমন্তরে নতুন করে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। যদিও দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর যন্তরমন্তরে কর্মসূচির জন্য করা আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। এই সমাবেশ বেআইনি, তাই সাধারণ মানুষকে এতে অংশ না নেওয়ার জন্য সচেতন করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়াও ককরোচ প্রতিবাদ ঘিরে উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুক্র ও শনিবার সমস্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
