West Bengal Chief Minister Suvendu Adhikari and other officials attend a government event in Kakdwip, with the Chief Minister addressing the audience from the stage.

জনমত বাংলা নিউজ ডেস্ক : ২০২৯ সালে মুড়িগঙ্গা সেতুর উদ্বোধন! কাকদ্বীপে দাঁড়িয়ে বড় প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। শনিবার একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি জানান, প্রস্তাবিত সেতুর উদ্বোধন হবে ২০২৯ সালে। শুধু তাই নয়, কাকদ্বীপকে পৃথক জেলা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

এদিন মুড়িগঙ্গা সেতু নিয়ে আগের সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেতু নির্মাণের ঘোষণা করলেও কাজ এগোয়নি। জমি অধিগ্রহণ এবং বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির মতো প্রাথমিক কাজও করা হয়নি বলে দাবি শুভেন্দুর। তিনি বলেন, “এই সেতু নিয়ে আগের সরকার শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জমি অধিগ্রহণ হয়নি, তৈরি হয়নি ডিপিআরও। আমি আজ কথা দিয়ে গেলাম, ২০২৯ সালেই এই সেতুর উদ্বোধন হবে।” এবার তাঁর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর সুন্দরবনবাসীর।

তৃণমূল সরকারের আমলে মুড়িগঙ্গার উপর গঙ্গাসাগর সেতু নিয়ে এমনই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়, সেতুর দু’পাশে ফুটপাথও থাকবে। তৎকালীন পূর্ত দপ্তর সূত্রে আরও জানানো হয়েছিল, সেতুর নকশা তৈরির কাজ সম্পূর্ণ। সার্ভে, টেন্ডার এবং বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট বা ডিপিআর তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। সেই সময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, রাজ্য সরকারই সেতুর ডিপিআর তৈরি করছে। তবে অতীতের এই দাবিগুলি ঘিরেই এবার প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার সেতু নির্মাণ নিয়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

সাগরদ্বীপ ও মূল ভূখণ্ডের মাঝে মুড়িগঙ্গা নদী থাকায় ভেসেল পরিষেবাই যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু জলস্তর কমে গেলেই বন্ধ হয়ে যায় ভেসেল চলাচল। এর জেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েন মহিলা, শিশু ও রোগীরাও। তাই মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। প্রস্তাবিত সেতু তৈরি হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং দ্বীপবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকটাই কমতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *